মানা হচ্ছেনা সরকারি নির্দেশনা

ভোলায় বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশানায় ভোলা সদর সহ প্রতিটি উপজেলায় প্রশাসন সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নিলেও সংক্রমন রোধে জনস্বার্থে নেয়া এসব নিয়ম মানছেনা এই জনপদের শহর ও গ্রামগঞ্জের মানুষ। জেলার ৭ উপজেলার শহরের প্রধান প্রধান এলাকায় রাস্তাঘাট জনশুণ্য, দোকানপাট বন্ধ থাকলেও ঠিক উল্টো চিত্র শহরের বাজার ও গ্রামগঞ্জের হাট বাজার গুলোতে। সেখানে প্রকাশ্যেই চলছে হাটবাজার ও চায়ের দোকানের আড্ডা।

করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে এক মিটার দুরত্ব রেখে চলাচলের নির্দেশানা থাকলেও বাস্তবে তা খুব কমই মানুষ মানছেন। জটলা পাকিয়ে চায়ের দোকানে আড্ডা দেয়া সহ কাঁচাবাজার,নিত্যপণ্যর দোকানে জনসাধারনের রয়েছে অবাধ বিচরন। এর ফলে পুরো জেলায় বারছে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি।
দেশে টানা ১০ দিনের সাধারন ছুটি ও লকডাউনের কারনে ঢাকা সহ সারা দেশ থেকে স্থানিয়রা বাড়িতে আসায় এখানকার শহরের বাজার ও গ্রাম্য হাটবাজার গুলোতে যেন ঈদের আমেজ বইছে। চায়ের দোকানে কাষ্টমারকে আকর্ষন করার জন্য চলছে টিভি। বিকেল থেকে মধ্যেরাত পর্যন্ত চায়ের দোকানে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ।

সরজমিনে এমন চিত্রই দেখা যাচ্ছে ভোলা সদর উপজেলার কয়েকটি বাজারে। উপজেলার পৌর শহরের খালপ পাড় বাজার, গ্রামের ভেদুরিয়া, ভেলুমিয়া, ব্যাংকের হাট, খেয়াঘাট, চৌমুহনী,চরপোটকা, পাঙ্গাশিয়া,হাওলাদার বাজার, জংশন বাজার, রাজাপুর বাজার, শান্তির হাট, ক্লোজার বাজার, জনতার বাজার ঘুরে দেখা যায় এই চিত্র।

জেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী ও পুলিশের পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাস নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রচার-প্রচারনা চালালেও মানুষ তা কর্ণপাত করছেন না। সকালে স্থানীয় হাঁট-বাজারের দোকানগুলোতে লোকজন কিছুটা কম হলেও বিকেলে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। কেউ কেউ প্রশাসন ও পুলিশের টহলের খবর রেখে, দোকানের অর্ধেক শাটার খোলা রেখে কৌশলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বাজারের দোকান ব্যাবসায়িদের সাথে করোনা সংক্রমন বিষয়ে আলাপ করলে তারা বলেন, আমরা সামান্য আয়ের মানুষ, দোকান না চালালে পেটে ভাত ঝুটবেনা, যেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে না খাওয়ার পালা সেখানে করোনায় ধরলে কি করুম। ক্ষুধার জালায় মরার চেয়ে করোনায় মরা অনেক ভাল।

তাছাড়া গ্রামের এই মানুষগুলো ব্যবহার করছেন না মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বড় ধরনের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। একটি চায়ের কাপে মুখ রাখছেন অনেকে। কার মুখ থেকে কার শরীরের করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পরছে তা টের পাচ্ছেন না কেউ।
বাঁজারে আসা লোকজন বলছেন, ঘর থেকে বের না হওনের মানা থাকলেও কাম কাইজের তাগিদে হাট বাজারে আসতে হয়। হাটবাজার না করলে পোলা পাইনে খাইবো কি ।

জেলার সচেতন মহল বলছেন , করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা প্রশংসনীয়। কিন্তু এসব জনকল্যাণ মূলক নির্দেশনা গুলো সাধারণ মানুষ ঠিকমতো মানছেন না। অসচেতন মানুষগুলোর সচেতন করে জনসমাগম বন্ধ করা না গেলে পুরো জেলায় করোনার সংক্রামন ছড়িয়ে পরতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে কথা হয় ভোলার জেলা প্রশাসন মো. মাসুদ আলম সিদ্দিকির সাথে, তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি আমার কানে এসেছে। আমি খুব দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনয়ী ব্যাবস্থা নিচ্ছি।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।