লালমোহনের ১০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার রয়েছে, নেই ৩০৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

শহীদ মিনার আমাদের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতীক। এদেশের সব কাজের প্রেরণার উৎস হলো শহীদ মিনার। ১৯৫২ সাল থেকে শহিদ মিনারের তাৎপর্য আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম বহন করছি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পেয়েছি আমরা ২১ ফেব্রুয়ারির কারনে। এই কারনেই শুধু আমাদের বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বের সব মানুষ শহীদ মিনারকে যেন বাংলা ভাষার মর্যাদার আসন করে তুলেছেন। কিন্তু যেখান থেকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিখবে সেই আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে যদি স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকে তাহলে তারা কিভাবে তারা শিখবে। প্রতি বছর ২১ শে ফেব্রুয়ারী আসলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্বের দিন ২০ ফেব্রুয়ারি কলা গাছ আর বাঁশ দিয়ে একটি শহীদ মিনার তৈরী করে আর তা দিয়েই ভাষা শহীদদের স্মরণ করে। একারণে ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, লালমোহন উপজেলায় মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩১৭টি। তারমধ্যে কলেজ ১০টি, ডিগ্রি কলেজ ৪ টি, স্কুল এন্ড কলেজ ৩ টি, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩১টি, নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৬টি, দাখিল মাদ্রাসা ৩৩ টি, আলিম ২ টি, ফাজিল ৬ টি, কামিল ১ টি । মোট মাদ্রাসা ৪২টি ও প্রাথমিক বিদ্যালয় মোট ২১৮টি রয়েছে। এর মধ্যে লালমোহন পৌর এলাকার লালমোহন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গজারিয়া গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, গজারিয়া বালক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডাওরীর হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দ্বীপশিখা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাজিগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধলীগৌর নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রমাগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ লালমোহন মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৮টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম গত ১৭/০২/২০২০ ইং তারিখে স্মারক নং -উমাশিঅ/লাল/২০২০/৭৪ উপজেলার সকল উচ্চ মাধ্যমিক/ মাধ্যমিক/নিম্ন মাধ্যমিক ও মাদ্রাসাসমূহে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই সে সকল প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে অস্থায়ী ভাবে শহীদ মিনার নির্মান করে আন্তর্জার্তিক মাতৃভাষা দিবস পালন করতে বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সরকার দেশের সকল প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মান করবে।
লালমোহনের সচেতন মহল মনে করেন আমাদের দেশের উল্লেখ্যযোগ্য দিবসের মধ্যে একুশে ফেব্রুয়ারি একটি অন্যতম দিবস। একুশে ফেব্রুয়ারি আজ কেবল বাঙ্গালীর নয়, বিশ্ববাসীর কাছেও একগুরুত্বপূর্ণ দিন হিসাবে গন্য। তাই প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার তৈরী করে ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা উচিত।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।