গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সুফল পাচ্ছে বোরহানউদ্দিনের দেউলা ইউনিয়নের জনগণ

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রলয় কর্তৃক বাস্তাবায়িত বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় UNDP ও EU সহযোগী সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশন।
ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা দেউলা ইউনিয়নে গত ২০১৯ইং সালে গ্রাম আদালতের মোট ৮৭টি মামলা গ্রহণ এবং ৮৪টি মামলা নিস্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ মামলা ৬৫টি এবং নারী মামলা ২২টি। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ফৌজদারী মামলা থেকে ১৫৩০০ টাকা, দেওয়ানী সরাসরী ১৩৪৩০০ টাকা, উদ্ধারকৃত জমি ১৯১ শতাংশ। যার অনুমানিক ১৮৫৫০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় হয়েছে। বাস্তবায়িত মামলার সংখ্যা পুরষ ৩৬টি এবং নারী ২১টি। ফী আদায় ১৪৭০ টাকা। গ্রাম আদালতের ফৌজাদরী মামলার ফী ১০ টাকা এবং দেওয়ানি মামলার ফী ২০ টাকা। অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পাওয়া যায় বলে গ্রামের সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের গ্রাম আদালতের প্রতি আস্তা বেরে যাচ্ছে। এমনটাই জানালেন গণমাধ্যম কর্মীকে স্থানীয় জনগণ।
উপকারভোগী ১নং ওয়ার্ডের কয়ছর রাজা বলেন, আমি একজন সাধারন কৃষক। আমার জমি সংক্রান্ত একটি জামেলা হয়। আমি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতে একটি মামলা করি। আর সেই মামলা মাত্র ১৫ দিনের মাধ্যমে সমাধান করে দেয়। এতে আমি অনেক খুঁশি। এরকম বিচার ব্যবস্থা যেন আমাদের দেশে থাকে।
উপকারভোগী ৬নং ওয়র্ডের ময়না বেগম বলেন, আমি ও আমার প্রতিবেশীদের সাথে গাছ নিয়ে বিরোধ হয়। আমি উক্ত বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। মাত্র ২০ দিনের মধ্যে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে চেয়ারম্যান সাহেব মিমাংশা করে দেয়। এতে আমি অনেক সন্তেষ্ট। এত সুন্দর বিচার ব্যবস্থা আমাদের দেশে চালু হওয়ায় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।
অপর উপকারভোগী ২নং ওয়ার্ডের কাশেম মোল্লা বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী। আমার প্রতিবেশীর সাথে টাকা-পয়সা নিয়ে জামেলা হয়। তদপরি আমি ইউনিয়ন পরিশদের গ্রাম আদালতে একটি মামলা করি। উক্ত মামলা করার মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে গ্রাম আদালত চেয়ারম্যান সাহেবের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করে দেন। এতে আমি অনেক খুঁশি। এরকম বিচার ব্যবস্থা যেন আজীবন চালু থাকে এটাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে কাম্য।
দেউলা ইউনিয়নের সচিব বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চালু হওয়াতে অনেক সুনামের সহিত বিচার কার্য্য সম্পন্ন করতে পারছি। এ জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
দেউলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইকবাল তালুকদার বলেন, আগে মানুষ বিচার পেতো না এবং পেলেও অনেক দেরী করে দালালদের মাধ্যমে ঘুরাঘুরি হয়ে বিচার কার্য্য হতো। কিন্তু এখন গ্রাম আদালত হওয়াতে আমাদের বিচারকার্য্য দ্রুত করতে সহায়তা করেছেন। তাই এখন আমরা ইউনিয়ন পরিষদের বিচারকার্য্য গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সুন্দরভাবে করতে পারি। সরকারের এহেন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
দেউলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে এখন আমরা ছোট-খাটো মামলাগুলো দ্রুত নিস্পত্তি করতে সক্ষম হচ্ছি। বিশেষ করে নারী ও সমাজের হতদরিদ্র মানুষগুলো অল্প সময়ে সল্প খরচে সঠিক বিচার পাচ্ছে এখানকার মানুষ। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আমাদের এ বিচারকার্য অব্যাহত থাকবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।