ভেদুরিয়ায় উচ্চস্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ

ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ব্যাংকেরহাট এলাকায় উচ্চস্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউনিয়নের ১ নং ওয়াার্ডর চর রমেশ গ্রামের ফারুক ডাক্তার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
ফারুক ডাক্তার বাড়ির ফারুক হোসেন ভূঁইয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার প্রতিবেশী নাসির মিয়ার বাড়িতে তার ছেলেরা কিছুদিন পরপরই পিকনিকের আয়োজন করে। অনেক উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে গান বাজায়। গত ৮ নভেম্বর শুক্রবার ও নাসির মিয়ার ছেলেরা ৪০-৫০ জন ছেলে নিয়ে পিকনিকের আয়োজন করে এবং দুপুর তিনটা থেকে সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে উচ্চস্বরে গান বাজানো থাকে। আমার স্বামী ফারুক হোসেন একজন হার্টের রোগী। ঐ দিন সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে উচ্চস্বরে গান বাজানোর কারণে আমার স্বামী অসুস্থ্য বোধ করতে থাকে। আমি বিকেল ৪ টার দিকে আমার ওয়ার্ডের মেম্বার বশার মিয়াকে ফোন করে উচ্চ শব্দ গান বাজানোর কারনে আমার স্বামীর অসুস্থ্যর কথা বলি এবং উচ্চস্বরে গান না বাজানোর জন্য নাসির মিয়াকে অনুরোধ করতে বলি। কিন্তু রাত সাড়ে এগারোটা বেজে গেলেও নাসির মিয়ার ছেলেরা উচ্চ শব্দে গান বাজানো বন্ধ করেনি, তখন আমি ও আমার ছেলে পারভেজ গিয়ে নাসির মিয়াকে উচ্চস্বরে গান না বাজানোর জন্য অনুরোধ করি। এতে করে ক্ষিপ্ত হয়ে নাসির মিয়ার ছেলে রিয়াজ, রাকিব, রুবেল, সাকিবসহ তাদের আরো বন্ধুবান্ধব দৌড়ে এসে আমাদের মারতে আসে। আমি ও আমার ছেলে ভয়ে দৌড়ে এসে আমাদের ঘরে উঠে। তখন তারা লাঠিসোটা দিয়ে আমাদের ঘরের দরজা এবং টিনের বেড়া বেধড়ক পিটিয়ে ভাংচুর করে। আমাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে হামলাকারীদের থামায়। তখন আমি সাথে সাথে আমাদের চেয়্যারমান তাজল স্যারকে ফোন দেই। সাথে সাথে চেয়্যারমান সাহেব চৌকিদার পাঠায়।
ফাতেমা বেগম আরও বলেন, নাসির মিয়ার ছেলেরা আমার স্বামী ও আমার ছেলেকে এখনো হুমকি দিচ্ছি। আমরা পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি তাই আমি আইনের সহযোগিতা নেব। এ ব্যাপারে জানতে সরোজমিনে নাসির মিয়ার বাড়িতে গেলে নাসির মিয়া হামলার অভিযোগটি পুরোপুরি অসত্য বলে দাবি করেন এবং তিনি আরও বলেন, আমার ছেলেরা ফাতেমার ঘরের উপর হামলা করেনি বরং ফাতেমার ছেলে পারভেজ আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভেদুরিয়া ইউনিয়নের চেয়্যারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম মাস্টার বলেন, ঘটনা শুনে আমি সাথে সাথে আমার চৌকিদার এবং ওই ওয়ার্ডের মেম্বারকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। দুই পরিবারের সদস্যদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়েছে কিন্তু মারামারি হয়নি। আমি এবং ইউপি সদস্য মিলে দুই পরিবারের সদস্যদের মাঝে মীমাংসা করার চেষ্টা করব।
ভেলুমিয়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি আরমান হোসেন বলেন, আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।