কোথাও নেই প্রতাপশালী যুবলীগ চেয়ারম্যান

হঠাৎ করে হাওয়া হয়ে গেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। হাজার হাজার নেতা-কর্মী ঘেরা সংগঠনটির চেয়ারম্যানকে দেখা যাচ্ছে না। ব্যাংক হিসাব তলব ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার পর থেকেই তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী সংগঠনের সব কার্যক্রম থেকে বিরত আছেন। আসন্ন জাতীয় কংগ্রেস তার অনুপস্থিতিতেই হতে পারে।

প্রভাব-প্রতিপত্তি, হাজারও নেতার উপচে পড়া ভিড় আর বিশাল গাড়িবহরের কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। ফলে বাধ্য হয়েই নির্জন-নিভৃতে চলে গেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।

নিজেকে তরুণ ভাবাপন্ন ৭১ বছর বয়সী ওমর ফারুক চৌধুরী যুবলীগের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই একক ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন। এককভাব চালিয়ে যান নানা অপকর্ম।

ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে যুবলীগ চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য নেতার সম্পৃক্ততার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে সংগঠনটি। রোববার এ কমিটি গঠন করা হবে বলে যুগান্তরকে জানান যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. আতাউর রহমান।

ইতিমধ্যে ৩ বছর মেয়াদি যুবলীগ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব টেনে ৭ বছর পার করেছেন ওমর ফারুক চৌধুরী। যথাসময়ে সম্মেলন করেননি। এবার ২৩ নভেম্বর সংগঠনটির জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০১২ সালের ১৪ জুলাই সর্বশেষ জাতীয় কংগ্রেসে যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ওমর ফারুক চৌধুরী।

অভিযোগ আছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিনি অনেক নেতাকে কমিটিতে স্থান দিয়েছেন। পদভেদে ১০ লাখ থেকে শুরু করে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। ফ্রিডম পার্টি ও যুবদলের অনেকে টাকার বিনিময়ে ঠাঁই পেয়েছেন যুবলীগে বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা জানান, বিগত সাত বছরে তারা চেয়ারম্যানের ভয়ে তটস্থ ছিলেন। মুখ বুজে সব অপকর্ম সহ্য করেছেন। সংগঠনে সব সিদ্ধান্ত তিনি এককভাবে নিয়েছেন। আমাদের শুধু সম্মতি দিতে হয়েছে। তার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মত দিলেই তাৎক্ষণিক বহিষ্কার, অফিসে আসতে বারণ পর্যন্ত করা হয়েছে। তারা বলেন, তার সব অপকর্ম জায়েজ করার মেশিন ছিল যুব জাগরণ প্রকাশনা। এখান থেকে নানা বই ও প্রকাশনা বের করে সবার কাছে ভালো সাজার চেষ্টা করতেন। পুরো সাত বছরে যুবলীগ বলতে আমরা শুধু তাকেই বুঝতাম।

এদিকে ক্যাসিনো-কাণ্ডে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর নাম আলোচনায় আসায় দীর্ঘ ৭ বছর ধরে কোণঠাসা নেতারা মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

শুক্রবার অনুষ্ঠিত সংগঠনটির প্রেসিডিয়াম বৈঠকে তাকে বহিষ্কার ও নতুন কাউকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বভার দেয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আসন্ন জাতীয় কংগ্রেসে তিনি যাতে সভাপতিত্ব করতে না পারেন তা নিয়ে অনেকেই কথা বলেছেন।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় সেখানে।

শুক্রবারের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন প্রেসিডিয়াম সদস্যরা। প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান আতা, মাহবুবুর রহমান হিরণ, মো. ফারুক হোসেন অভিন্ন সুরে বলেন, যেহেতু উনি (ওমর ফারুক) নেই, তাহলে সিদ্ধান্ত নিতে কেন পারব না? ব্যক্তির দায় সংগঠন বহন করতে পারে না। উনি উপস্থিত না হলে কাউকে না কাউকে তো সভাপতিত্ব করতে হবে।

তার নামে নানা ধরনের সংবাদ সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে। ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ সময় আলতাফ হোসেন বাচ্চু বলেন, যেহেতু উনি নেই, তাই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।

ক্যাসিনো-কাণ্ডের শুরুতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ তিন নেতার গ্রেফতারের পর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন যুবলীগ চেয়ারম্যান। তিনি ওই ঘটনাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেন। প্রশাসনকেও দুষেছেন। যুবলীগের প্রশ্নবিদ্ধ নেতাদের পক্ষে প্রকাশ্যে সঅবস্থান নিয়েছেন। এর পরের দৃশ্যপট অন্যরকম। এরপর থেকেই তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।

সূত্র যুগান্তর

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।