ভোলায় কাজীদের অর্থের লোভে ঠেকানো যাচ্ছে না বাল্যবিবাহ

ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন কাজী অফিস গুলোতে অর্থের লোভে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নির্ভিঘেœ চলছে বাল্য বিবাহ। ফলে একদিকে চলছে পারিবারিক কলহ। অন্যদিকে সৃষ্টি হচ্ছে সামাজিক অশান্তি। আশঙ্কাজনকভাবে বাল্য বিবাহের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সদরের অনেক স্থানে ঘটেছে নানা ঘটনা। কাজীর অর্থলোভ, প্রশাসনের নির্লিপ্ততা ও স্থানীয়ভাবে অসচেতনার কারণে বাল্য বিবাহের প্রবনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এছাড়া ইউনিয়ন ভিত্তিক কাজীদের প্রতি প্রশাসনিক মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন সচেতন মহল। তবে সচেতন মহলের মতে, প্রতিমাসে যে সব বিয়ে হয় তার অধিকাংশ বিয়েতে কনের বয়স ১৮ বছরের কম থাকে। বয়স নির্ধারনের জন্য বিয়ের সময় বর কনের জন্ম সনদ বা জাতীয় পরিচয় পত্র দেখার নিয়ম থাকলেও বিয়ে রেজিষ্ট্রাররা এসবের তোয়াক্কা না করে নির্ভিঘেœ চালিয়ে যাচ্ছে বাল্য বিবাহ। এদিকে সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নে চলছে বাল্যবিয়ের হিড়িক।
সুত্রে জানা যায়, চলতি সপ্তাহে ভোলার ইলিশা জংশন বাজারের পাশে দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীসহ ঐ ইউনিয়নে ৩ ছাত্রীর বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। মৌলভীর হাট মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী আসমা বেগম ও রাজাপুর আদর্শ নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীরও বাল্যবিবাহ হয়েছে। এদিকে এখানকার অনেক মানুষ এখনো তাদের কন্যা সন্তানদের পরিবারের বোঝা বলে মনে করে থাকে। তাই মেয়েরা একটু বেড়ে উঠতে না উঠতেই বিয়ে দেয়ার জন্য তারা তৎপর হয়ে উঠে। আবার অনেকে জানেনা ১৮ বছর পূর্ণ না হলে মেয়ের বিয়ে দেয়া আইনি নিষিদ্ধ। ফলে উপযুক্ত পাত্র পেলেই তারা আর দেরী করে না। এছাড়া কতিপয় কিছু গ্রাম্য ঘটক পাড়া মহল্লায় ঘুরে কন্যা দায়গ্রস্ত পিতাদের মেয়ে বিয়ে দিতে নানাভাবে প্ররোচিত করে থাকে। ফলে অধিকাংশ অভিভাবকরা তাদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দিয়ে নিজেদের ভারমুক্ত করে নেন। আর এভাবে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দেয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির ফলে এলাকায় বেড়ে চলছে পারিবারিক কলহ ও সামাজিক অশান্তি। অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে দেয়ায় এতে দিন দিন অস্থির হয়ে উঠেছে সমাজ ব্যবস্থা, ভেঙ্গে যাচ্ছে অনেক পরিবার।
সুত্রে আরো জানা যায়, ভোলা সদরের পরানগঞ্জ বাজারের ইকবাল কাজী, সামছুদ্দিন মার্কেট এর জাকির কাজী, রাজাপুরের সিরাজ কাজী, ইলিশার হুমায়ুন কাজী, বাপ্তার হাছনাইন কাজীরা বেশির ভাগ এলাকায় সহকারী নিয়োগ করে গ্রামে-গঞ্জে এই বাল্যবিবাহগুলো পড়িয়ে থাকেন। তবে এই কাজীদের মধ্যে অনেকেই বাল্যবিবাহ পড়ানোর অপরাধে জেল খেটেছেন।
এই বিষয়ে রাজাপুর ইউনিয়নের কাজীর সাথে কথা হলে তিনি তাঁর অফিসে শিক্ষার্থীর কোন বিয়ে হয়নি বলে জানান। অপরদিকে সচেতনতার অভাবে অথবা অন্য যে কোন কারনেই হউক তবুও এর প্রবণতা বাড়ছে। এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া দরকার আমাদের সকলেরই। তাহলে হয়তো বাল্য বিবাহ থেকে সমাজকে রক্ষা করা যেতে পারে। তার সাথে সাথে অপ্রাপ্ত বয়সে মেয়েদের বিয়ে ফলে সমাজে যে অশান্তি বিরাজ করছে সেটা থেকেও মুক্তি লাভ করা সম্ভব হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।