ঢাকায় ‘উপকূল ফাউন্ডেশন ভোলা জেলা’র কমিটি গঠন

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উপকূল ফাউন্ডেশন কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ নামে খ্যাত ভোলা জেলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা শাখার কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯) বিকেলে ঢাকাতে এক বিশেষ সভায় মোঃ শাহিনকে (চরফ্যাশন) সভাপতি ও শাওন খানকে (বোরহাউদ্দিন) সাধারণ সম্পাদক করে মোট ১৩ সদস্যে বিশিষ্ট এ কমিটি ঘোষনা করা হয়। এছাড়াও কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে মোঃ মামুন (বোরহাউদ্দিন), সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুয়েল (বোরহাউদ্দিন), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান শিহাব (লালমোহন), মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পারভিন আক্তার দিনা (ভোলা সদর), সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক তন্নি মাওয়া (চরফ্যাশন), দপ্তর সম্পাদক ফজলে রাব্বি (দৌলতখান), সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম (মনপুরা), প্রচার সম্পাদক তানভির আহমেদ (লালমোহন)। সদস্য হিসেবে এক. মেসবাহ উদ্দিন হাসিব, দুই. তাওহিদ আহমেদ রমি, তিন. রাসেল আহমেদকে করা হয়।
ওই সময় উপকূল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম. আমীরুল হক পারভেজ চৌধুরী সভাপতির বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের ১৯টি জেলার ১৪৭টি উপজেলা প্রকৃতিগতভাবেই উপকূলে অবস্থিত। দেশের এক-দশমাংশ এলাকা উপকূল, যার বিস্তৃতি ৭১০ কিলোমিটার। এখানে প্রায় চার কোটি মানুষের বসবাস। উপকূলের জীবন ও জীবিকার সাথে প্রকৃতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উপকূল ফাউন্ডেশন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে সমৃদ্ধ উপকূলে মুক্তির হাসি শ্লোগান নিয়ে কাজ করে আসছে। তিনি বলেন, উপকূল অঞ্চলের বিদ্যমান সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অফুরন্ত। বাংলাদেশের ২৫ শতাংশ নাগরিক উপকূলে বসবাস করে যেমন, তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতে জিডিপির কম-বেশী ২৫ শতাংশ অবদান উপকূলের। উপকূলের জীবন ও জীবিকার সাথে প্রকৃতির মেলবন্ধন উপকূলকে আরো ভাবিয়ে তোলে। তিনি আরো বলেন, গাঙ্গেয় অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত দেশের একমাত্র দ্বীপজেলা ভোলা। ভোলা জেলা সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক। উপকূলীয় জনপদ ভোলার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য যে কোন মানুষের মনে গভীর ভাবে দাগ কাটে। এই জেলার নামের সাথে ইলিশ, নারিকেল, সুপারী, ধান ইত্যাদি জুড়ে রয়েছে। ইলিশের রাজধানী হিসবে ভোলা এখন পরিচিতি পাচ্ছে। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, উপকূল ফাউন্ডেশনের জেলা কমিটির সম্বনয়কারী এডভোকেট আব্দুল বাসেত, মোঃ শাহীন, মোঃ মামুন, শাওনসহ আরও নেতৃবৃন্দ।
সভায় অন্যন্য বক্তারা বলেন, ভোলা জেলার উত্তরে বরিশাল জেলা ও মেঘনা নদী, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা ও মেঘনা নদী এবং পশ্চিমে বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা ও তেঁতুলিয়া নদী। এছাড়াও রয়েছে মনপুরা, ভোলার দক্ষিণে চর কুকরী মুকরী, ঢালচর, লতার চর ও চর নিজামসহ অসংখ্য চর। নৈসর্গিক দৃশ্য সম্বলিত এ চরগুলো হতে পারে পর্যটনের জন্য আকর্ষণীয় স্থান।
বক্তারা আরও বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য “কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ” খেতাবটি এই জেলার দখলেই। দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়াচ টাওয়ার এ দ্বীপে। এলাকার কিংবদন্তী, মসজিদ মন্দিরের স্থাপত্য ও নানা ঐতিহাসিক নিদর্শণ বিশ্লেষণ করলে অনুমিত হয় এ জনপদ মাত্র ৭/৮ শত বছর আগে সভ্যতার আলোকপ্রাপ্ত হয়েছে।
প্রাকৃতিক অনেক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েও ভোলাবাসী এখনও আশার আলো দেখতে চায়। এ নৈস্বর্গিক দ্বীপ ভোলা জেলায় মূল্যবান প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ শুধু জেলাবাসীর জন্যই নয় সমগ্র দেশের জন্য আশানুরূপ সুফল বয়ে আনার প্রত্যাশা রাখে। এ জেলায় উৎপাদিত রূপালী ইলিশ ভোলা বাসীর চাহিদা পূর্ণ করে দেশের অন্যান্য জেলার চাহিদা পূর্ণ করছে।
বক্তারা আরও বলেন, সমস্যা ও সম্ভাবনায় দাঁড়িয়ে খাদ্যে উদ্বৃত্ত ও রূপালী ইলিশ সমৃদ্ধ হলেও ঝড়-জ্বলোচ্ছাস ও নদী ভাঙ্গনের তান্ডবকে নিয়তির অমোঘ বিধান বলে মেনে নিয়েছে এখানকার মানুষ। একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে তারা অবিশ্রান্ত পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলছে সম্মুখের পানে উপকূল জেলা ভোলা।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।