প্রমানের পালা নাঈম-আমিনুলের

আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক হারে দলে আনা হয়েছে চারটি পরিবর্তন। ইয়াসির আরাফাত ও মেহেদি হাসান কোন ম্যাচ না খেলেই দল থেকে বাদ পড়েছেন। সৌম্য সরকার ফর্মহীন থাকায় দলের বাইরে চলে গেছেন। হুট করেই দলে ডাক পাওয়া বাঁ-হাতি পেসার আবু হায়দারও ম্যাচ না খেলেই বাদ পড়েছেন। তাদের জায়গায় রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম শান্ত দলে ঢুকেছেন। দলে জায়গা পেয়েছেন নতুন দুই মুখ নাঈম শেখ ও আমিনুল ইসলাম।
লেগ স্পিন অলরাউন্ডার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ঃ তরুণ এই ক্রিকেটারকে লেগস্পিনার হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে। বয়সভিত্তিক বা ঘরোয়া ক্রিকেটে আহামরি পারফরম্যান্স নেই তার। এক প্রকার অপরিচিত মুখ শরীয়তপুরের এ ক্রিকেটার। লেগস্পিনে নিয়মিত নন তিনি। বিকেএসপিতে ব্যাটসম্যান হিসেবেই গড়ে উঠেছেন। বিসিবির বয়সভিত্তিক দলেও খেলেছেন টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানের ভূমিকায়। গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও খেলেছেন এ অলরাউন্ডার। এ বছর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বিকেএসপির হয়ে ৪০ গড়ে ৪৪০ রান করেছেন। বিকেএসপি ক্রিকেট বিভাগের চিফ কোচ মাসুদ হাসান তার এই ছাত্রকে ব্যাটসম্যান হিসেবেই পরিচয় দিলেন, ‘ও মূলত ব্যাটসম্যান। বোলিংটা সে কালেভদ্রে করত। তবে খারাপ করত না। উইকেটও পেত। বোলিংটা তার বিকল্প, ব্যাটিং রোলটাই আসল। জাতীয় দলে কোন ক্যাটাগরিতে সুযোগ পেল, সেটা বলতে পারব না।
২০ বছর ছুঁই ছুঁই বিকেএসপির এ ছাত্র এখনও লেগস্পিনার হিসেবে দৃষ্টি কাড়ার মতো পারফরম্যান্স করতে পারেননি। হাইপারফরম্যান্স ইউনিটের ক্যাম্পে থাকার সময় লেগস্পিনের ওপর জোর দেন। আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে ও শ্রীলংকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে হাত ঘুরিয়ে উইকেট নেন তিনি। তার ব্যাপারে ডমিঙ্গোকে সুপারিশ করেছেন বিসিবি এইচপি কোচ রিচার্ড হেলমুট। তার মধ্যে হয়তো আরেকজন অলক কাপালিকে দেখেছেন হেলমুট। তবে আরাফাতের মতো ড্রেসিংরুমের অভিজ্ঞতা নিয়েই বাদ পড়তে হতে পারে তাকে।
ওপেনিং ব্যাটসম্যান নাঈম শেখ ঃ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দুই মৌসুম ধরে দুর্দান্ত খেলেছেন ফরিদপুরের এই ব্যাটসম্যান। এ বছর লিগের সবচেয়ে বেশি রান করেন ২০ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যান। ২০১৭-১৮ মৌসুমে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে ১২ ম্যাচে ৪৬.৩৩ গড় ৫৫৬ রান করেছেন তিনি। এ বছর ১৬ ম্যাচ খেলে তিনটি সেঞ্চুরি ও পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরিতে ৮০৭ রান তার। এ মৌসুমে ব্যাটিং গড় ৫৩.৮০। স্ট্রাইক রেটেও হয়েছে উন্নতি। আগের মৌসুমে ছিল ৮২ এবার ৯৪.৩৮।
লিগে ভালো খেলায় বিসিবির এইচপি স্কোয়াডে নেওয়া হয় নাঈমকে। তবে বিসিবির হয়ে ভালো খেলতে পারেননি। শ্রীলংকা ইমার্জিং দলের বিপওে খেলেছেন। ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তিনি ১৪ বলে ২৩ রান করেন। জুলাইয়ে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে আফগানদের বিপক্ষে সেঞ্চুরিও আছে। ওপেনার সৌম্য সরকারের জায়গায় ডাকা হয়েছে তরুণ এ ব্যাটসম্যানকে। তার অভিষেক হয়ে যাওয়াও মোটামুটি নিশ্চিত।
নাঈমকে দলে ডাকার ব্যাপারে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের যুক্তি, ‘নাঈম বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের বিবেচনায় আছে। টি-২০র জন্যই ভেবেছি ওকে। দেখি কেমন করে।’ নাঈম বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাই মুজিব উরের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে তার সামনে। সর্বশেষ ম্যাচে মুজিবের বিপক্ষে সৌম্যকে খেলাবে না বলেই ওপেনে মুশফিককে নামানো হয়। সেই সৌম্যর বিকল্প হিসেবে বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানকে ডাকা কতটা যৌক্তিক সেই প্রশ্ন থাকছে। নির্বাচকদের হাতের নাগালেই আরেক তরুণ ডানহাতি ওপেনার সাইফ হাসান ছিলেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।