দ্রুত পরির্বতনশীল বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং মধ্য বিত্তের বিকাশ

১৯৫০ সালের জমিদারী প্রথা বিলোপের মাধ্যমেই মুলতঃ বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেনীর উত্থান এর পথ উন্মুক্ত হয়। কার্যত ১৯৬০ এর দশকের পাকিস্তাপনের সামরিক শাসক আইউব খানের শাসন আমল থেকে বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের বিকাশ ধিরে ধিরে স্পষ্ট হয়ে উঠে । ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর আমরা উওরাধিকার সুত্রে যে সমাজ ব্যবস্থা লাভ করি সেখান মধ্যবিত্তের আকার ছিলো ছোট, প্রাধানত শহর কেন্দ্রিক মধ্যবিত্তরাই হয়ে উঠে রাজনীতির চালিকা শক্তি। এই শ্রেনীর তার দ্রুত বিকাশ এর জন্য শ্রেনী চরিত্র এবং বাস্তবতার আলোকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার মুখাপ্রেক্ষি হযে পরে ছিল। রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে তারা নিজ অর্থনৈতিক সাবলম্বিতার বিকাশ ঘটাতে চেয়েছে। ১৯৭১স্বাধীনতা পরবর্তী রাষ্ট্রের মুলনীতি ছিল সমাজতন্ত্রমুখী। জমির শিলিং করে দেওয়া হয়েছিলো ২৫ বিঘা পর্যন্ত। সেই সময় উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতি ব্যবস্থা ছিলো না। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করার পর সেনা শাসকেরা রাষ্ট্রেয় প্রতিষ্ঠান গুলোকে মধ্য বিত্তের হাতে তুলে দেয়। সেই থেকে ১৯৯০ সালে যখন প্রত্যক্ষ সেনা শাসন এর অবসান ঘটে তখন একটি মাঝারি আকারের মধ্যবিত্তের শ্রেনী গড়ে ওঠে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ উন্মুত্ত বাজার মুখী অর্থনীতিতে অংগিভুত হয়ে পরেছে।
বিশেষত গত কয়েক দশকে ১৯৯৬ সালের পর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভাবে ব্যাপক প্রবৃদ্বি অর্জন করেছে। গত দশক গুলোতে দেশের অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক অস্থীতিশীলতা সত্বেও গড়ে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ এর গড়ে বেড়েছে। এই সময় মথাপিছু আয় বেড়েছে এবং দরিদ্রতা অনেক কমেছে। বাংলাদেশের কোটিপতির সংখ্যা ২০১৬ জানুয়ারি হিসাবে ১ লক্ষ ১৯ হাজার এর বেশি। (মানব জমিন) সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে আমরা দেখতে পাই।
বাংলাদেশের ব্যাংকের প্রতিবেদনে পরিসংখ্যান দেখাগেছে ১৯৭২ সালে দেশে একাউন্টধারী কোটিপতি সংখ্যা ছিল মাত্র ৫ জন। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সংখ্যা দাড়ায় ৪৮ জন। ১৯৮০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ই সংখ্যা দাড়ায় ৯৮ জন।এর পর ১৯৯০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯৪৩ জন। ১৯৯৬ সালের জুনে কোটিপতি সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৯৪ জন। ২০০১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোটিপতি সংখ্যা দাড়ায় ৫ হাজার ১৬২ জন । ২০০১ থেকে ডিসেম্বর ২০০৬ পর্যন্ত সংখ্যা বেড়ে ছিল ৮ হাজার ৮৮৭ জন।
তত্ত্বাবদায়ক সরকারের আমলে ২ বছরে ২০০৭-২০০৮ পর্যন্ত বেড়ে ছিল ৫ হাজার ১১৪ জনে। এই সময়ে সর্বমোট কোটিপতি সংখ্যা দাড়ায় ১৯ হাজারের বেশি। অন্য পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর প্রযন্ত দেশে মোট কোটিপতি সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৩৬৯ জন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর প্রযন্ত সাত বছরে দেশের মোট কোটিপতি সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৩৬১ জন (মানব জমিন ২০১৭)। দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির কারনেই ধনীর সংখ্যা বেড়েছে।
বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন ,২০১৫ রির্পোটে বলা হয়েছে যে, জাতীয় আয়ে দারিদ্র এক শতাংশ ভাগ কমেছে। তবে এখনো ৩০ শতাংশ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বাস করে। ২০১৫ সালের অক্টেবরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ৭ শতাংশ যথা ১ কোটি ২০লক্ষ হচ্ছে মধ্য ও বিত্তশালী ভোক্তা। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রদান দিকগুলির আলোচনা থেকে এই সমাদানে পৌছানোর যায় যে গত কয়েক দশক বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যে হারে অব্যাহত রয়েছে এর ফল সরুপ মধ্যবিত্তের আকার বড় হচ্ছে।
গত ২০ শে জানুয়ারি ভারতের ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ঢাকা শহরে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য গুলোর মত মধ্যবিত্তের উত্থান হচ্ছে। যাদের ব্যায়ের ক্ষমতা ত্রুমান্বয়ে বেড়ে চলছে। বর্তমানে প্রধান মন্ত্রি জন নেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ি ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে জনগন প্রত্যাশিত উন্নত দেশে পরিনত করার অঙ্গিকার বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সাথে সাথে শহর ভিত্তিক মধ্যবিত্ত ধনির শ্রেনীর বিকাশ কে কেন্দ্র করে গ্রাম ভিত্তিক জনগনের অর্থনৈতিক অসমতা দুর করার জন্য সম্পদের সুষ্ট বন্টন বৈশম্যহীন ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গ্রামকে শহরের সুবিধা প্রদান করতে এক ব্যাপক কর্মসুচি গ্রহন করেন। দেশের ৫ বিভাগের ১৮০ উপজেলায় গ্রামীন অবকাঠামো তথা সড়ক উন্নয়ন এডিবি সাথে ২০ কোটি ডলারের ঋন চুক্তি করেছেন। বাংলাদেশে প্রকল্পটি বাস্তায়িত হলে এডিবি ও সপ্তম পঞ্চম বার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখবে।
চলতি অর্থ বছরে যে সব দেশে ৭ শতাংশ এর বেশি প্রবৃদ্ধি হবে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।বিশ্ব অর্থনৈতিক অবস্থা ও সম্ভাবনা ২০১৯ নামে জাতিসংগের এক প্রতিবেদনে এই পূর্বাবাস রয়েছে। এইচ এস বি সি ব্যাংকের এর এক জন বিশেষজ্ঞ বলেছেন ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৬ তম বৃহত্তর অর্থনীতির দেশ। রিপোর্টে বলা হয় বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে রুপান্তর এর কৃতিত্ব মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর জননেত্রী শেখ হাসিনার।

 

ফজলুল কাদের মজনু

সভাপতি

ভোলা জেলা আওয়ামীলীগ

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।