অস্থিরতা কাটছে না শেয়ারবাজারে

দরপতন হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। সোমবার বড় পতনের পর মঙ্গলবার বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বুধবার ফের পতনের ধারায় ফিরেছে। কোরবানির ঈদের পর বাজারে কিছুটা ইতিবাচক ধারা ফিরে এলেও এখন আর তা নেই। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ফের হতাশা বিরাজ করছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিক্রির চাপে দরপতন হচ্ছে। গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম কমার প্রভাবও পড়ছে বাজারে।

সপ্তাহের চতুর্থ দিন বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে প্রায় ৩৯ পয়েন্ট। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৮৮ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বুধবার গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। গ্রামীণফোনের বাজারমূলধন অনেক বড়। এর একটা বড় প্রভাব; কিন্তু সূচক এর উপরে থাকে। এদিন সূচকের পতনে গ্রামীণফোনেরও অবদান আছে।

বুধবার লেনদেনের শুরু থেকেই বাজারে খবর ছড়িয়ে পড়ে গ্রামীণফোনের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসি। এরপরই গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম কমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত এই শেয়ারটির দর ৩ টাকা ৬ পয়সা বা ১ দশমিক ১২ শতাংশ কমে লেনদেন শেষ হয়। বিটিআরসির দাবি, গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তির দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে তাদের।

এই টাকা আদায়ের জন্য বারবার তাগাদা দেয়ার পরও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একমাত্র মোবাইল অপারেটর কোম্পানি জিপি সেই টাকা শোধ করেনি। এখন প্রতিষ্ঠান দুটির লাইসেন্স বাতিলের মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিটিআরসি।

শেয়ারবাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টক বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, বুধবার সূচকের পতনের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান গ্রামীণফোনের। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে যথাক্রমে ব্র্যাক ব্যাংক এবং ইস্টার্ন ব্যাংক।
বুধবার ডিএসইতে ৪৫৬ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা মঙ্গলবারের চেয়ে ১১ কোটি ৪ লাখ টাকা কম। মঙ্গলবার এই বাজারে ৪৬৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছিল। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩৫০টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৫৯টির, কমেছে ২৬২টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির দর।

ডিএসইএক্স বা প্রধান মূল্যসূচক ৩৮ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ১৩৯ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ৫ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৯২ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ১১ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮১৭ পয়েন্টে। অন্যদিকে সিএসইতে ২৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এই লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা কম। লেনদেন হয়েছে ২৬৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬০ টির, কমেছে ১৮৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টির দর।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।