সর্বশেষঃ

লালমোহনে পরিত্যক্ত পুকুর ময়লা আবর্জনায় পূর্ণ, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পৌরবাসী

ডেঙ্গু আতঙ্কে পুরো দেশ। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় হতে শুরু করে দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা স্থানীয় সরকারের সকল বিভাগ, স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনসহ ডেঙ্গু নির্মুল ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান রুমীর নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন, সচেতনতামূলক র‌্যালীসহ আলোচনা সভা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
লালমোহন পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র খ্যাত মদনমোহন আখড়া মন্দিরের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ও দত্তপাড়া রোডের পূর্ব পাশে অবস্থিত ভূমি অফিসের আওতাধীন দু’টি বিরাট পুকুর ময়লা আবর্জনায় পূর্ণ হয়ে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়ালেও যেন দেখার কেউ নেই। জানা গেছে এ দুটি পুকুরই পরিত্যক্ত ও সরকারি ভূমি হওয়ায় তা উপজেলা ভূমি অফিসের আওতাধীন রয়েছে।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, দত্তপাড়া রোডের পূর্ব পাশে অবস্থিত ময়লা আবর্জনায় পূর্ণ পুকুরটির পূর্ব, পশ্চিম ও দণি পাশ ঘেঁষে অনেক পরিবারের বসবাস। পুকুরের দণি পাশ দিয়ে মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছন হয়ে শত শত মানুষ করিম রোড হয়ে যাতায়াত করেন। পুকুরের দক্ষিণ পাশ দিয়ে মানুষের যাতায়াতই কষ্টকর। দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে ময়লা আবর্জনার স্তুপের মধ্য দিয়েই টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হলেও উৎকট বিশ্রী গন্ধে মানুষদের নাক চেপে চলাচল করতে দেখা যায়। একটু সামনে এগোলেই টিউবওয়েল ঘিরে ময়লা আবর্জনার স্তুপ। পথচারীরা সেখানেই মূত্র ত্যাগ করেন। পুকুরের উত্তর ও পশ্চিম পাশে অবস্থিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ আশেপাশের ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীরা সকল উচ্ছিষ্ট ময়লা আবর্জনাই পুকুরে ফেলে রাখছেন। এসব পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আশে পাশে বসবাসরত একাধিক বাসিন্দারা জানান, পুকুরটির উত্তর ও পশ্চিম পাশের কিছু অংশ অবৈধ দখল হয়ে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পুকুরটির ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করনে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অবহেলা রয়েছে। তাঁরা ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে পুকুরের দখলকৃত অংশ উদ্ধারের দাবি জানান।
মদনমোহন আখড়া মন্দিরের দণি পাশে উপজেলা ভূমি অফিসের পশ্চিম উত্তর পাশ ঘেঁষে অবস্থিত বিশালাকৃতির পুকুরটির চিত্র ও অনেকটা একই রকম। মন্দিরে প্রবেশে পথের দনি পাশ ঘেঁষে পুকুর পাড়েই বসে পথচারীরা মূত্র ত্যাগ করেন। সকল ময়লা আবর্জনার স্তুপও এখানেই বেশি। মন্দিরে উপাসনা করতে আসা সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের লোকেরা ও মন্দির ঘিরে বসবাসরত বাসিন্দারা সহ পথচারীদের ময়লা আবর্জনা ও মূত্রের বিশ্রী গন্ধ শুকেই আসতে হচ্ছে। মহাজনপট্রির আশে পাশের সকল ব্যবসায়ীসহ ফুটপাথের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সকল আবর্জনার স্তুপ পুকুরের উত্তর ও পশ্চিম পাশ ঘিরেই। লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ বিনয় কৃষ্ণ গোলদার জানান পঁচা বিশ্রী দুর্গন্ধে বিভিন্ন জীবাণু মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশ করলে মানুষ সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মাহমুদুর রহমান খন্দকারের নিকট পুকুর দুটির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরলে তিনি ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাঁর কক্ষে ডেকে এনে পুকুরের আশে পাশের সকল ব্যবসায়ীদের নোটিশ প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করেন। এর পরেও কেউ ময়লা আবর্জনা ফেললে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে শাস্তি দিবেন বলে জানান।
ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, দত্তপাড়া রোডের পুকুরটির কিছু অংশ অনেকে দখল করে আছেন, তাঁরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলে দখলবাজদের পুকুরের দখলীকৃত অংশ ছাড়তে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান রুমীকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।