ভোলায় ৩ ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

ভোলায় গণধর্ষণের হোতাদের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে ভোলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আতোয়ার রহমান। ৭ আগষ্ট বুধবার জনাকীর্ণ আদালতে দীর্ঘ শুনানি শেষে তিনি এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত ও ভিকটিমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের জুলাই মাসে ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের একটি নিঝুম স্থানে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার কন্যাকে রাতভর পালাক্রমে গণধর্ষণ করেন রাজাপুরের ভূমিদস্যু রফিক মাল, ভুট্টু মেম্বার, বাশারসহ আরো পাঁচজন। ধর্ষণের ২ দিন পর ২০১১ সালে মুক্তিযোদ্ধা তছির আহাম্মদের মেয়ে নাজমা বেগম নিজে বাদী হয়ে ভোলা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ভোলার থানা দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল ওই চার্জশিট গ্রহণ করে রফিক মাল, ভুট্টু মেম্বার, বশার সরদার, বাদশা ও কবিরের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। চার্জ শুনানির পর দীর্ঘদিন ধরে এ মামলাটির সাক্ষী গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ দিন ধরে বিবাদী পরে আইনজীবীরা সাক্ষীদের জেরা করেন। অবশেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ শুনানীআন্তে ৭ আগস্ট ভোলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আতোয়ার রহমান চাঞ্চল্যকর এই মামলার যুগান্তকারি এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন ধর্ষিতার পরিবার। রায় ঘোষণার পর ভোলার ইলিশা এবং রাজাপুরে মিষ্টি বিতরণ এর ঘটনা খবর পাওয়া গেছে। রাজাপুরের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খান রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রাজাপুরের গণধর্ষনের হোতাদের যথাপোযুক্ত বিচার হয়েছে। ভোলার নারী-শিশু আদালতের বিচারক আতোয়ার রহমানের এ রায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভোলার মুক্তিযুদ্ধা নেতারা। তারা বলেন, আমরা খুবই সন্তুষ্ট এবং এই রায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রায়ের বিষয়ে ইলিশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাছনাইন আহমেদ হাছান মিয়া সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই সরকারের আমলে মানুষ সঠিক বিচার পায়। এটাই তার প্রমান। অপরাধী যেই হউক তার শাস্তি পেতেই হবে। ধর্ষিত অসহায় মুক্তিযোদ্ধার মেয়ের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারি ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি গোলাম মোর্শেদ কিরন তালুকদার। তিন বলেন, আজকের এই রায় ভোলার নির্যাতিত মানুষের জয়। রায়ে রফিক মাল, ভুট্টু মেম্বার, বশার সরদারকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১ বছরের জেল দেয়া হয়েছে এবং সন্দেহাতীতভাবেভাবে অপরাধ প্রমান না হওয়ায় বাদশা ও কবিরকে খালাস দেয়া হয়েছে। কারাদন্ড প্রাপ্তরা রাজাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং বর্তমানে ভোলা কারাগারে রয়েছেন। 

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।